IPIP-NEO

নিউরোটিসিজম · দিক N5

অসংযমN5

অসংযম, গবেষণার লেখায় যাকে বলা হয় আবেগপ্রবণতা বা ইম্পালসিভিটি, মাপে ইচ্ছাটা আসার ঠিক মুহূর্তে তার টান কতটা জোরালো হয়ে ওঠে। আপনি কী চান সেটা এখানে প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো না বলার দাম কত। বেশি স্কোর যাঁদের, তাঁদের কাছে চাওয়াটা আসে স্রোতের মতো। কম স্কোর যাঁদের, তাঁদের কাছে সেটা নেহাত একটা প্রস্তাব, পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যায়।

  • নিউরোটিসিজমের পঞ্চম দিক
  • গবেষণায় নাম আবেগপ্রবণতা
  • 135,947 প্রোফাইলে গোনা
  • বিনামূল্যে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া

বিনামূল্যে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

এই পাল্লা কোন জিনিসটা মাপে

এখানে মাপা হয় চাওয়ার গলার জোর, আর সেই চাওয়াকে থামিয়ে রাখতে কতটা খরচ হয় সেটা। দশটি বিবৃতি ঘোরাফেরা করে পেট ভরে যাওয়ার পরেও আরেক পাত খাবার, হিসাবের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া খরচ আর ভালো লাগছে বলে ঠিক করা সময়ের পরেও চালিয়ে যাওয়ার আশপাশে। কোন জিনিসটার দিকে আপনার ঝোঁক, পাল্লাটি একবারও তা জানতে চায় না, ভালো-মন্দের রায়ও দেয় না। সে মাপে কেবল একটাই জিনিস: ইচ্ছাটা যখন এসে দাঁড়ায়, তখন সেটাকে ফিরিয়ে দিতে আপনার কতটা জোর লাগে।

দিকটির ঘর নিউরোটিসিজমে, কারণ তাড়নার কাছে হেরে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ নিজের উপরেই বিরক্ত হন, আর পরিবারের সঙ্গে মিলটা মোটামুটি ওখানেই শেষ। মাত্রার ছয়টি দিকের মধ্যে এটিই নিজের পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে আলগা হয়ে বসে: বাকি পাঁচটির সঙ্গে এর সম্পর্ক 0.44, ছয়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। গোটা মডেলে এর সবচেয়ে জোরালো যোগটা পড়ে আছে নিজের মাত্রার বাইরে, দায়িত্বশীলতার সতর্কতার সঙ্গে, মাইনাস 0.53। এর পরের দুটিও ওই একই পরিবারের: কর্তব্যবোধ মাইনাস 0.41 আর আত্মশৃঙ্খলা মাইনাস 0.41।

একটা সন্ধ্যা দিয়ে কিছুই প্রমাণ হয় না। প্যাকেটটা শেষ করে ফেলা সবার জীবনেই ঘটে, আর কঠিন একটা সপ্তাহ পার করে আসা মানুষ যা সহজে হাতের কাছে পান তাতেই হাত বাড়ান। পাল্লাটি পড়ে ঘটনাহীন সাধারণ সপ্তাহটা: কিছুই ভেঙে পড়েনি এমন দিনে টান কত ঘন ঘন জিতে যায়, আর সেটাকে সামলে রাখতে চুপচাপ কতটা খরচ হয়ে যায়। এই কারণেই কাঁচা 32 এখানে ভয় পাওয়ার মতো সংখ্যা নয়, বরং ভিড়ের ঠিক মাঝখান, আর কথাটা আগেভাগেই বলে রাখা দরকার।

গবেষণাপত্রে এই এলাকাটির চলতি নাম আবেগপ্রবণতা বা ইম্পালসিভিটি, আর পুরোনো বইপত্র একে ডাকত সংযমের ঘাটতি নামে। এখানকার বিবৃতিগুলো দাঁড়িয়ে আছে গোল্ডবার্গের শুরু করা আর জনসনের সাজানো উন্মুক্ত IPIP ভান্ডারের উপরে, কোনো বাণিজ্যিক প্রশ্নমালার অংশ এগুলো নয়।

পাশের যে তিনটির সঙ্গে গুলিয়ে যায়

তিনটি প্রতিবেশী এত কাছে বসে যে কথার মাঝখানে একটার জায়গায় আরেকটা বসে যায়, আর প্রতিবার বদলের সঙ্গে স্কোরের মানেটাও বদলে যায়।

আত্মশৃঙ্খলা (C5)

এই দুটি এক দাঁড়িপাল্লার দুই মাথা নয়, আর সেটাই এখানে সবার আগে বলে নেওয়া দরকার। আমাদের তথ্যে জোড়াটির সম্পর্ক মাইনাস 0.41: যোগ আছে, আয়না নেই। এই দিকটি জিজ্ঞেস করে হাতের নাগালে লোভনীয় কিছু থাকলে কী হয়, আর আত্মশৃঙ্খলা জিজ্ঞেস করে আকর্ষণহীন কাজটা তবু চলতে থাকে কি না। তাই একজন মানুষ প্রতিটি কাজ শেষ করেও রাত এগারোটায় ফ্রিজের কাছে হেরে যেতে পারেন, আর তাতে কোনো অসংগতি নেই।

আসক্তি

এটি ব্যক্তিত্বের একটি মাপকাঠি, আর এর দৈর্ঘ্যের কোথাও কোনো সীমারেখা টানা নেই। আসক্তি ঠিক হয় ক্ষতির হিসাবে, মাসের পর মাস ধরে হাতছাড়া হয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে আর অভ্যাসটা থেমে গেলে কী ঘটে তাতে, আর সেই বিচার করেন প্রশিক্ষিত কেউ, সামনাসামনি কথা বলে। এই পাল্লার উপরের প্রান্তে থাকা বেশিরভাগ মানুষ কোনোদিন সেদিকে যান না, আর এই পাতা কারও ভেতরে কিছু খুঁজে বের করে না।

রোমাঞ্চের খোঁজ (E5)

অভিজ্ঞতার জোরালো সংস্করণটা চাওয়া আর একটা ইচ্ছাকে পরে করব বলে সরিয়ে রাখতে না পারা প্রায় আলাদা দুটো জিনিস: জোড়াটির সম্পর্ক 0.24, শূন্যের বেশ কাছে। যিনি খাড়া ঢালে নেমে যেতে ভালোবাসেন, তিনি দিব্যি দশটার সময় ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে পড়তে পারেন, আবার যিনি সাইকেলের চেয়ে জোরে কিছুতে চড়েন না, তাঁর গোটা সন্ধ্যা চলে যেতে পারে আরও একটা পর্বের পেছনে।

একই পাল্লার দুই মাথা

কোনো প্রান্তই ভালো চরিত্র নয়। একটা দাম মেটায় পরিশ্রম দিয়ে, অন্যটা ফিকে হয়ে আসা আনন্দ দিয়ে, আর মাঝখানের মানুষ দুটোরই একটু একটু করে দেন।

বেশি স্কোর: চাওয়া আসে চড়া গলায়

আনন্দ আপনার কাছে পুরোটা এসে পৌঁছায়, আর সঙ্গে সঙ্গেই পৌঁছায়, যেটার নিজস্ব দাম আছে: খাবার, গান আর মানুষের সঙ্গ আপনাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় না। খরচটা লুকিয়ে থাকে চাওয়া আর ঠিক করার মাঝখানের ফাঁকটুকুতে। আপনার ওই ফাঁকটা সরু, তাই অন্য দিকটার পক্ষে যুক্তিগুলো গুছিয়ে ওঠার আগেই সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়ে যায়, আর পরে মনে হয় কেউ যেন আপনার হয়ে সেটা নিয়ে নিয়েছিল।

  • একটা পর্ব কোথাও সিদ্ধান্ত ছাড়াই তিনটে হয়ে যায়
  • যা ভালো লাগে, সেটা আপনি খোলাখুলি আর জোরে ভালোবাসেন
  • সন্ধ্যার পরিকল্পনা টেকে সহজ কিছু সামনে আসা পর্যন্ত
  • শুরু করা কোনোদিন কঠিন ছিল না, থামাটাই কঠিন

এখনই চাই, এই টানটা আপনার ভেতরে জোরালো স্রোতের মতো বয়ে যায়। এটা চরিত্রের দুর্বলতা নয়, সামলানোর মতো একটা উঁচু সিগন্যাল, আর এখানে লজ্জার চেয়ে কাঠামো বেশি কাজে দেয়।

কম স্কোর: টানটা আসে চাপা গলায়

না বলাটা আপনার জন্য সস্তা। দ্বিতীয়বার পাত বাড়ানো, ছাড়ের বিজ্ঞাপন আর খুলে রাখা ট্যাব আপনার ভেতরে কোনো দরাদরি না বাধিয়েই পেরিয়ে যায়, আর ওই তর্কের পেছনে অন্যদের যে ঘণ্টা আর টাকা চলে যায়, সেগুলো আপনার হাতেই থেকে যায়। সঙ্গে আসে একটা দূরত্ব: অন্যরা যাকে বলেন অপ্রতিরোধ্য, আপনার কানে সেটা বাজে সাধারণ শব্দে, আর তার কাছে হেরে যাওয়া মানুষের প্রতি ধৈর্যটা আপনাকে ইচ্ছে করে তৈরি করতে হয়।

  • যেখানে থামবেন বলেছিলেন, ঠিক সেখানেই থামেন
  • ছাড় আর বিনামূল্যের ট্রায়াল আপনাকে নাড়াতে পারে না
  • আধখানা চকলেট আলমারিতে গোটা সপ্তাহ টিকে যায়
  • তীব্র ইচ্ছেটা কেমন, সেটা আপনি অন্যের মুখে শোনা কথায় জানেন

লোভ দেখানো জিনিস আপনার সঙ্গে ফিসফিস করে, চিৎকার করে না। একটাতেই থেমে যাওয়া, খরচ পিছিয়ে দেওয়া, অ্যাপ বন্ধ করা: এসবে ইচ্ছাশক্তি বেশি খরচ হয় না।

দশজনের মধ্যে চারজন পড়েন মাঝের সারিতে, পুরুষদের ক্ষেত্রে মোটামুটি 27 থেকে 36 পয়েন্ট আর নারীদের 28 থেকে 38। সেখানে ব্যাপারটা চলে একটা দরাদরির মতো, যার হিসাব মোটের উপর ভালো: কোনো সন্ধ্যায় টান একটা রাউন্ড জিতে নেয়, বেশিরভাগ সন্ধ্যায় নেয় না, আর সকাল হতে হতে কোনোটারই দাগ আর থাকে না।

কম, মাঝারি আর বেশি ভাগ হয় জনসনের 30/40/30 পার্সেন্টাইল প্রথায়, কোনো চিকিৎসাগত সীমারেখা ধরে নয়। পাল্লাটি একটা খিদের কথা বলে, রোগের কথা নয়, আসক্তির কোনো দরজা এখানে বসানো নেই, আর এই পাতা কারও কিছু শনাক্ত করে না, কারও চরিত্রের রায়ও দেয় না।

স্কোরগুলো ছড়িয়ে থাকে কীভাবে

কাঁচা স্কোর হলো দশটি উত্তরের যোগফল, তাই সংখ্যাটা চলে 10 থেকে 50-এর মধ্যে। নিচের বক্ররেখা আঁকা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে শেষ করা 135,947টি প্রোফাইল থেকে, আর সেটি সরু: নিউরোটিসিজমের আর কোনো দিকে মানুষ এত ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়ায় না।

মূল পার্সেন্টাইল টেবিল আকারে
পার্সেন্টাইলকাঁচা স্কোর
1023
2528
5033
7538
9042

পুরুষদের অর্ধেক পড়েন 27 থেকে 36-এর মধ্যে আর নারীদের অর্ধেক 28 থেকে 38-এর মধ্যে, মধ্যমা যথাক্রমে 31 আর 33। গোটা মাত্রার মধ্যে এই পাল্লার ভরকেন্দ্রই সবচেয়ে উঁচুতে, তাই কাঁচা 32 এখানে সাধারণ ফল, দুশ্চিন্তার কারণ নয়। পার্সেন্টাইল আপনাকে মেলায় নিজের লিঙ্গ ও বয়সের সেই মানুষদের সঙ্গে, যাঁরা একই টেস্ট দিয়েছেন।

লিঙ্গ আর বয়স কতটা নাড়ায়

তথ্যে দুটি দলগত ফারাক ধরা পড়ে, আর যেটা কেউ আশা করেন না সেটাই দুটোর মধ্যে বড়।

নারীদের গড় 32.9 পয়েন্ট আর পুরুষদের 31.0, ফারাক 40 পয়েন্টের ব্যাপ্তিতে 1.9, যা নিউরোটিসিজমের ছয়টি দিকের মধ্যে চতুর্থ সবচেয়ে বড়। বয়স খাটে অনেক বেশি: দুই দলেরই রেখা চল্লিশের আশপাশ পর্যন্ত প্রায় সমতল থাকে, তারপর নামতে শুরু করে, পুরুষদের 31.1 থেকে 27.8 আর নারীদের 33.0 থেকে 30.1। সবচেয়ে বেশি বয়সের ঘরে জমা পড়েছেন প্রতি লিঙ্গে প্রায় 250 জন, তাই ওই প্রান্তটুকু ইঙ্গিত হিসেবে পড়াই ভালো, সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

পাঁচ বোনের পাশে জায়গাটা

নিউরোটিসিজম মানে ছয়টি পাল্লার যোগফল, আর এই দিকটি নিজের পরিবারে সবচেয়ে কম মানানসই: বাকি পাঁচটির সঙ্গে এর মিল 0.44, ছয়ের মধ্যে সবচেয়ে কম, যদিও গোটা মাত্রার সঙ্গে সম্পর্ক 0.58। ভেতরের দিকে এর সবচেয়ে কাছের বিষাদ, 0.41, আর সবচেয়ে দূরের সংকোচ, 0.23। নিচের লেখচিত্র দেখায় বাইরের কাদের সঙ্গে এর সত্যিকারের ওঠাবসা।

রোজকার জীবনে কোথায় দেখা যায়

কাজে

কাজের জায়গায় বৈশিষ্ট্যটি বসে দিনের ফাঁকফোকরে, ফলের খাতায় নয়। সময়সীমা মোটামুটি রক্ষা পায়, তবে সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাটা এমন কয়েকটা বাঁক নেয়, শান্ত খিদের সহকর্মী যেগুলোর কথা ভাবেনও না। দাম বেশি পড়ে সেই কাজে, যার কোনো মেঝে নেই: খোলা চ্যাটের জানালা, খোলা ব্রাউজার, শেষ কোথায় তা লেখা নেই এমন দায়িত্ব। নিচের প্রান্তে দিনটা দেখতে সাদামাটা, আর জোরে বাঁচা সহকর্মীরা সেই সাদামাটা ভাবটাকে মাঝেমধ্যে অসম্মতি বলে পড়ে ফেলেন।

মানুষের সঙ্গে

মানুষের মাঝখানে এই দিকটি একই সপ্তাহে উদারতা আর ঘষা দুটোই তৈরি করে। বেশি স্কোরের মানুষ বাড়তি রাউন্ডটার কথা বলেন, সন্ধ্যাটাকে টেনে লম্বা করেন আর সেই কারণেই তাঁদের সঙ্গ দারুণ, আবার মাসের শেষে হিসাবের খাতা নিয়ে সঙ্গী কথা তোলেন তাঁদের সঙ্গেই। কম স্কোরের মানুষকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজানো সহজ, আর তাঁদের ভাগে প্রায়ই পড়ে ঘরের হিসাবরক্ষকের ভূমিকা, যেটার জন্য কেউ কোনোদিন আবেদন করেননি।

নিজের বেড়ে ওঠায়

বদলের প্রশ্নে সবচেয়ে কম নড়ে সংকল্প, কারণ টানটা কত জোরে আসবে সেটা কেউ বেছে নেন না। যা নড়ে তা হলো ইচ্ছা আর হাতের মাঝখানের দূরত্ব: জিনিসটা আদৌ ঘরে রাখা আছে কি না, কার্ডের নম্বরটা সাইটে বসানো আছে কি না, থামাটা আলাদা একটা সিদ্ধান্ত নাকি এমনিতেই ঘটে যায়। এটা চরিত্রের ব্যাপার নয়, বন্দোবস্তের ব্যাপার, আর এই কারণেই একই স্কোর নিয়ে দুজন মানুষ দুরকম জীবন কাটাতে পারেন।

মাত্রাটা কি বদলায়

যমজদের নিয়ে করা কাজ থেকে যে হিসাব বেরিয়ে আসে, তাতে এই ধরনের বৈশিষ্ট্যে মানুষে মানুষে ফারাকের মোটামুটি অর্ধেকটা লেখা থাকে উত্তরাধিকারের খাতায়। বাকিটার বড় অংশ ভাগ করে নেওয়া পরিবেশের নয়, বরং এমন সব ঘটনার, যা এক ভাইয়ের ভাগে পড়েছে আর পাশাপাশি বড় হওয়া অন্যজনের ভাগে পড়েনি। অর্থাৎ মাত্রাটা গোটাটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়াও নয়, বেছে নেওয়াও নয়, আর একবার থিতু হয়ে গেলে সেটা নড়ে বছরের হিসাবে, সপ্তাহের হিসাবে নয়।

গোটা জনসংখ্যায় রেখাটা ত্রিশের পর ঢালু হয়ে নামে, আর আমাদের মানদণ্ডেও একই আকার: সবচেয়ে কম আর সবচেয়ে বেশি বয়সের দলের মাঝখানে ব্যবধান প্রায় তিন পয়েন্ট। এখানে একই মানুষকে চল্লিশ বছর ধরে অনুসরণ করা হয়নি, ভিন্ন বয়সের ভিন্ন মানুষকে এক মুহূর্তে পাশাপাশি বসানো হয়েছে, তাই ঢালটা প্রবণতা হিসেবে পড়া উচিত, নিজের ভবিষ্যতের সূচি হিসেবে নয়।

এখানে দুটো জিনিস কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে, আর সেগুলো মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়। জোরালো একটা খিদে, যা মানুষটি সামলে চলেন, সেটা স্বভাব, আর পাল্লাটি ঠিক সেটারই খবর দেয়। যে অভ্যাস গোটা সপ্তাহ দখল করে নিয়েছে বা মানুষটির সিদ্ধান্তে আর সাড়া দিচ্ছে না, সেটা একেবারে আলাদা ব্যাপার, তার সাহায্যের ধরনও আলাদা, আর ব্যক্তিত্বের কোনো স্কোর সেটা খুঁজেও বের করে না, বাতিলও করে না।

একই খিদে সতর্কতা উঁচু হলে সামলে নেওয়ার মতো একটা বৈশিষ্ট্য, আর সতর্কতা নিচু হলে ছবির অনেক বড় একটা অংশ। এই জোড়াগুলো মিলিয়ে পড়ার কাজটা রাখা আছে সশুল্ক বিশ্লেষণে।

বিনামূল্যে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

মাপটা আসলে কীভাবে নেওয়া হয়

পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে এই দিকের পেছনে থাকে 10টি বিবৃতি, ছোট সংস্করণে 4টি। প্রতিটি উত্তরের দাম 1 থেকে 5, উল্টো করে লেখা বিবৃতিগুলো যোগ করার আগে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়, আর মোট যোগফল যায় আপনার লিঙ্গ ও বয়সের মানদণ্ড-তালিকায়, যেখান থেকে ফিরে আসে পার্সেন্টাইল। দশটির মধ্যে পাঁচটি আর চারটির মধ্যে তিনটি উল্টো করে লেখা, অর্থাৎ আপনাকে যা যাচাই করতে দেওয়া হয় তার বেশিরভাগই সাজানো সংযমের ভাষায়, বাড়াবাড়ির ভাষায় নয়।

IPIP-NEO-300বিবৃতি: 10নির্ভরযোগ্যতা, আলফা 0.79নমুনা: ১,৩৫,৯৪৭
IPIP-NEO-120বিবৃতি: 4নির্ভরযোগ্যতা, আলফা 0.71নমুনা: ৩,৮৫,৮০১

আলফা দেখায় একই পাল্লার বিবৃতিগুলো নিজেদের সঙ্গে কতটা মেলে। গবেষণায় 0.70 বা তার বেশিকে শক্ত ধরা হয়। এই সংখ্যাগুলো আমরা জনসনের খোলা তথ্য থেকে নিজেরাই হিসাব করেছি, তাই প্রকাশিত মানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

বিবৃতিগুলোর একটাও এই পাতায় তুলে দেওয়া হয়নি, আর সেটা ইচ্ছে করেই। আগে থেকে পড়া থাকলে মানুষ একই বাক্যে অন্যভাবে সাড়া দেন, তাই বাক্যগুলো সামনে আসে কেবল টেস্ট শুরু হওয়ার পর।

বিনামূল্যে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে

আপনার নিজের আন্দাজ কী

আগে আন্দাজ করাটাই এখানে আসল কথা। টেস্ট দেওয়ার আগে বসানো একটা অনুমান এমন কিছু বলে দেয়, যা একা স্কোর কোনোদিন বলবে না: নিজের এই দিকটা আপনি কতটা চেনেন।

50
টান ফিসফিস করেটান জোরে টানে
আপনার অনুমান
100 এর মধ্যে 50মাঝারি

0 মানে টেস্ট দেওয়া প্রায় সবার নিচে, 100 মানে প্রায় সবার উপরে।

এটি অনুমান, মাপ নয়। টেস্ট আপনার উত্তরকে আসল মানুষের মানদণ্ডের সঙ্গে মেলায়।

মানুষ যা জিজ্ঞেস করেন

নাম অসংযম কেন, আবেগপ্রবণতা নয়

IPIP-NEO প্রশ্নমালা পাল্লাটির নাম রেখেছে অসংযম, গবেষণার লেখায় একে বেশি ডাকা হয় আবেগপ্রবণতা বলে, আর মানুষ খোঁজেনও দ্বিতীয় শব্দটাই বেশি। দুটো নাম একই দশটি বিবৃতির দিকে আঙুল দেখায়, তাই পাতার মাথায় বসেছে প্রশ্নমালার নামটি, আর চেনা শব্দটা রাখা হয়েছে পথ দেখানোর কাজে।

বেশি স্কোর মানে কি আসক্তি

না। পাল্লার কোথাও কোনো সীমারেখা নেই, তাই কোনো সংখ্যা আসক্তি প্রমাণও করে না, বাতিলও করে না। উপরের প্রান্তের মানুষ রোজকার তাড়নার কাছে বেশিবার হারার কথা বলেন, আর তাঁদের বিপুল অংশ কোনোদিন আসক্তিতে পৌঁছান না। যে অভ্যাস টাকা বা সম্পর্কের দাম নিতে শুরু করেছে আর আপনার সিদ্ধান্তে আর সাড়া দিচ্ছে না, তার জায়গা প্রশ্নমালায় নয়, প্রশিক্ষিত মানুষের কাছে।

এটা কি আত্মশৃঙ্খলার উল্টো পিঠ

না, আর সংখ্যাও তাই বলে: জোড়াটির সম্পর্ক মাইনাস 0.41, যোগ আছে কিন্তু প্রতিফলন নয়। আত্মশৃঙ্খলা জানতে চায় একঘেয়ে কাজটা তবু চলতে থাকে কি না, আর এই দিকটি জানতে চায় ভালো লাগার মতো কিছু নাগালের মধ্যে এলে কী ঘটে। এর সবচেয়ে শক্ত পাল্টা ওজন আসলে সতর্কতা, মাইনাস 0.53।

নিউরোটিসিজমের বাকি দিকের চেয়ে গড় এত উঁচু কেন

কারণ যে খিদেগুলোর কথা এখানে জিজ্ঞেস করা হয়, সেগুলো একেবারেই রোজকার। 10 থেকে 50-এর পাল্লায় গড় দাঁড়ায় 32.1, ছয়টি দিকের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু, যেখানে চাপে ভেঙে পড়ার গড় 25.7। তাই কাঁচা 32 এখানে মাঝারি ফল, আর উপরের সারির দরজা খুলতে শুরু করে পুরুষদের 35 থেকে আর নারীদের 37 থেকে।

10টি বিবৃতির পাল্লা এখানে কতটা নির্ভরযোগ্য

আলফা দাঁড়ায় পূর্ণাঙ্গ সংস্করণে 0.788 আর ছোট সংস্করণে 0.706, দুটোই গোনা হয়েছে জনসনের প্রকাশ করা উন্মুক্ত তথ্যের উপরে, আর দুটোই নিউরোটিসিজমের ছয় দিকের মধ্যে সবচেয়ে কম। কারণটা সোজা: খাবার, খরচ আর পর্দা আলাদা আলাদা খিদে, আর একজন মানুষ একটিতে চড়া গলায় থেকে অন্যটিতে একেবারে চুপ থাকতে পারেন।

নিজের দাগটা কোথায় পড়ে দেখে নিন

এই পাল্লাটাকে বেশিরভাগ মানুষ মাপেন নিজের সবচেয়ে খারাপ সন্ধ্যাটা দিয়ে, গড় সন্ধ্যা দিয়ে নয়, তাই আন্দাজ আর সংখ্যা এখানে এত ঘন ঘন আলাদা হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ টেস্টে প্রতিটি দিকের পেছনে দশটি বিবৃতি, ছোটটিতে চারটি, আর দুটো সংস্করণই বিনামূল্যে।

বিনামূল্যে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে