দায়িত্বশীলতা কী
দায়িত্বশীলতা বিগ ফাইভ মডেলের পাঁচটি বড় মাত্রার একটি। OCEAN নামে যে C আছে, সেটা এই মাত্রাই। বাংলা একাডেমিক লেখায় একে কর্তব্যপরায়ণতা বলা হয়, দৈনন্দিন কথায় মানুষ বলেন শৃঙ্খলা বা নির্ভরযোগ্যতা। নাম যাই হোক, মাপা হয় একটাই জিনিস: একজন মানুষ কতটা ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পনা করেন, জিনিস ক্রমে রাখেন এবং মনের ঝোঁকে চলার বদলে শুরু করা কাজ শেষ করেন।
এখানে একটা বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার, কারণ বাংলা ব্যাখ্যামূলক লেখায় এই মাত্রার নাম নিয়ে দুটো ভুল চালু হয়ে গেছে। প্রথম ভুলটা সচেতনতা। শব্দটা শুনতে কাছাকাছি, কিন্তু সচেতনতা মানে খেয়াল রাখা বা মনোযোগী থাকা, আর এই মাত্রা মাপে নিজেকে গুছিয়ে চালানো, শৃঙ্খলা এবং কাজ শেষ পর্যন্ত টেনে নেওয়া। দ্বিতীয় ভুলটা বিবেকবোধ, আর সেটা আরও গোলমেলে। বিবেকবোধ মানুষের নৈতিক মান নিয়ে রায় দেয়, অথচ এই স্কোর কারও ভালো বা মন্দ হওয়ার মাপ নয়। কম স্কোর মানে অসৎ নয়, বেশি স্কোর মানে সৎ নয়। তাই আমরা মাত্রাটিকে দায়িত্বশীলতা বলি: কাজের প্রতি নির্ভরযোগ্যতা।
বেশি স্কোরের মানুষ ক্যালেন্ডার রাখেন, সময়ের আগেই কাজ নামিয়ে ফেলেন, আর অসমাপ্ত কাজ তাঁদের কাঁটার মতো বেঁধে। কম স্কোরের মানুষ হালকা চলেন: তাঁরা সময়মতো সামলে নেন, ছড়ানো অবস্থা সহ্য করেন এবং প্রতিটা ঘণ্টা পরিকল্পনায় বেঁধে ফেলার বদলে বিকল্প খোলা রাখেন। জীবন চালানোর দুটো পথই কাজ করে। কোনো প্রান্তই রোগ নয়, চরিত্রের সার্টিফিকেটও নয়, আর আমাদের বেশিরভাগই কোথাও মাঝখানে থাকি।
IPIP-NEO প্রশ্নমালায় দায়িত্বশীলতা একটামাত্র সংখ্যা নয়। এটা তৈরি হয় ছয়টা ছোট বৈশিষ্ট্য দিয়ে, যাদের বলা হয় দিক (উপ-বৈশিষ্ট্য): আত্মসক্ষমতা, গোছানো স্বভাব, কর্তব্যবোধ, সাফল্যের তাগিদ, আত্মশৃঙ্খলা আর সতর্কতা। একই মোট স্কোরের দুজন মানুষ এক ধাপ নিচে নামলেই আলাদা দেখাতে শুরু করেন। এই কারণেই এই পাতা এবং গোটা সাইট দিকগুলোর উপর এত জোর দেয়।